বই পড়ে পুরস্কার পেলো ৪৯টি স্কুলের ২১২০ জন শিক্ষার্থী
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব। উৎসবে রাজশাহী মহানগরীর ৪৯টি স্কুলের মোট ২,১২০ জন শিক্ষার্থীকে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণ উৎসবে বিভিন্ন পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. চিত্রলেখা নাজনীন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি), রাজশাহী; কাজী শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রাজশাহী; খায়রুল আলম সবুজ, অভিনেতা, লেখক, ও অনুবাদক; ইনাম আল হক, বাংলাদেশি পাখি বিশেষজ্ঞ, আলোকচিত্রী, লেখক ও পর্যটক; অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; মো. রোকনুজ্জামান, সহকারী পরিচালক, বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার, রাজশাহী; আহামেদ শফি উদ্দিন, প্রাক্তন সংগঠক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, রাজশাহী; মোহা. আবদুর রশিদ, উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চল; নন্দন কুমার সাহা, সার্কেল টেকনোলজি প্রধান, রাজশাহী, গ্রামীণফোন লিমিটেড এবং খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান, প্রাক্তন সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর সম্মানিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) ড. চিত্রলেখা নাজনীন বক্তব্যের শুরুতেই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের এই সাফল্যকে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অতিথিদের বক্তব্যে বিশিষ্ট অভিনেতা ও লেখক খায়রুল আলম সবুজ পুরস্কার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে তোমাদের জগৎকে বড় করতে হবে। আর এই জগৎকে বড় করতে হলে বই পড়তে হবে।’ এভাবে তিনি শিক্ষার্থীদের জীবনে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
বাংলাদেশি পাখি বিশেষজ্ঞ, আলোকচিত্রী, লেখক ও পর্যটক ইনাম আল হক শিক্ষার্থীরদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে বই জ্ঞানকে ধারণ করে আসছে। বই ছিলো না বলে দেড় লাখ বছরের জ্ঞান আমরা পাইনি। তাই আমাদের সবাইকে বই পড়তে হবে। বইয়ের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন তিনি।’

গ্রামীণফোন লিমিটেড রাজশাহীর সার্কেল টেকনোলজি প্রধান নন্দন কুমার সাহা বলেন, ‘তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মাঝে মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে গত দুই দশক ধরে গ্রামীণফোন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই মহতী উদ্যোগের সহযাত্রী ও অংশীদার।’
আলোকিত প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে তিনি বইপড়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক বিষয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। সবশেষে বিজয়ী সকল মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
স্বাগত বক্তব্যে প্রাক্তন সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান এই আনন্দঘন আয়োজনে সম্মানিত অতিথি এবং উপস্থিত সুধীজনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বছরব্যাপী এই বহুল প্রত্যাশিত বইপড়া কর্মসূচিকে সফল করে তুলতে যে সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক নিরলসভাবে কাজ করেছেন, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, এই আয়োজনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ‘গ্রামীণফোন’-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং বই পড়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মননশীল ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার এই অভিযাত্রায় আগামীতেও গ্রামীণফোনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই উৎসবে ৪৯টি স্কুলের মোট ২,১২০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর ৩৯ স্কুলের ১৭৬৬ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হবে এবং ১০টি স্কুলের ৩৫৪জন শিক্ষার্থীর পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাত প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তদের ১৩৮১ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৬৫৪ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৮৫ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কার প্রাপ্তদের ৪১৩ জন ছেলে ও ১৭০৭ জন মেয়ে।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপী উৎসবের বিশাল আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।
বিভি/এআই













মন্তব্য করুন: